jibanananda birthdayEducation Lifestyle Others 

কবিতার আলোকে জীবনানন্দ

কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিবসে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য। এই বাংলাকে তাঁর মতো কেউ দেখেননি। প্রেম-একাকীত্ব মিলিয়ে তাঁর জীবন। তিনি রূপসী
বাংলা-র কবি। জীবনানন্দ কবিতা সমগ্র, শ্রেষ্ঠ কবিতা পাঠককে নতুন করে ভাবায়। তাঁর লেখায় গ্রাম্য জীবনের ছবি ফুটে উঠে।
-“দূরে কাছে কেবলি নগর,ঘর ভাঙে;
গ্রাম পতনের শব্দ হয় ;
মানুষেরা ঢের যুগ কাটিয়ে দিয়েছে পৃথিবীতে,
দেয়ালে তাদের ছায়া তবু
ক্ষতি,মৃত্যু,ভয়,
বিহ্বলতা বলে মনে হয়। …
যন্ত্রণামুক্ত জীবনের আল্পনা নয়,বিষাদের ছবি ধরা পড়েছে তাঁর কবিতায়। তুলে ধরেছেন গ্রামীণ জীবনের রূপকথা। কবিতার প্রতিটি ছন্দে ধরা পড়েছে তাঁর অমর লেখনী। সেই ঝলকে আজও পাঠকের হৃদয় দোলা দেয়।
-“যে কবি পেয়েছে শুধু যন্ত্রণার বিষ
শুধু জেনেছে বিষাদ,
মাটির আর রক্তের কর্কশ স্বাদ,
যে বুঝেছে -প্রলাপের ঘোরে। …..

বাংলার দুঃখ-যন্ত্রণার ছবিও তুলে ধরেছেন কবি জীবনানন্দ। সেকালের গ্রামাঞ্চলের চিত্রটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তাঁর লেখনীতে। চলার পথের পথিক হয়ে একটা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন লেখার মাধ্যমে।
-“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়-হয়তো বা শঙ্খ চিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।

পথে-প্রান্তরে ঘুরে এক অনবদ্য জীবন-কথা তাঁর কবিতার অক্ষরে-অক্ষরে। প্রকৃতির রূপের ছটাও বর্ণনা করেছেন কলমে। বেশ কিছু কবিতায় চলার
পথ-নির্দেশ খুঁজে পাওয়া যায়। আগামীর দিশা দেখানোর চেষ্টা করেছেন কবিতার আখরে।
-“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি;বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
যেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক,চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।”….

কবিতাপ্রেমী মানুষদের কাছে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা অন্যমাত্রা পায়।
আবৃত্তিকার খুঁজে নিতে চায় তাঁর কবিতার নির্যাস। মনে-মুখে জীবনানন্দকে ঘিরে পথচলা। তাঁর কবিতা এক জীবন-দর্শন। চলার পথের পাথেয়। হতাশার দিকটিও কবিতায় ধরা পড়েছে।
-“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ,সবচেয়ে বেশী আজ চোখে দেখে তারা,
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নাই-প্রীতি নেই -করুণার আলোড়ন নেই,
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।….”

জীবনের ফেলে আসা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কোথাও থেমে যেতে হয়। জীবনের যবনিকা নেমে আসে। সেই জীবন্ত পথ চলা থেমে যায়। নিরব হয়ে যায় জীবন। জীবনানন্দরা থামে না। অক্ষরে তাঁদের মুক্ত বিছানো। সেই পথ চলমান। ….
-” সব পাখি ঘরে আসে –
সব নদী -ফুরায় এ -জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার,মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
(ছবি: সংগৃহীত)
(আপনার মতামত প্রত্যাশা করি)

Related posts

Leave a Comment